Message From Dr. T.K. Biswas
Dr. & Programmer T.K. Biswas
M.Com (Management), DHMS (BHB), PGD in ICT (KUET)
সুপ্রিয় চিকিৎসকবৃন্দ,
চিকিৎসা এমন একটি মহান পেশা যার মাঝ দিয়ে জীবনের সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষের কল্যানে কাজ করে স্রষ্টার সান্নিধ্য অনুভবের এটি একটি উৎকৃষ্ট মাধ্যম। এই পেশাতেই রয়েছে সবচেয়ে বেশি আত্মতৃপ্তি লাভের সুযোগ। আপনার জন্ম কতটা সার্থক তা আপনার সেবামূলক কর্মময় জীবনের মূল্যায়ণ হতেই উপলব্ধি করতে পারবেন। পেশাগত কাজে আপনার সফলতাই আপনার জীবনকে সার্থক করে তুলবে। দান করবে অপার্থিব আনন্দময় একটি সুন্দর জীবন। একজন মৃত্যু পথযাত্রী রোগী যখন চিকিৎসকের সেবা ও আন্তরিকতার ছোঁয়ায় রোগমুক্ত হয়ে জীবনের পথে ফিরে আসেন তখন চিকিৎসকের প্রতি তার যে কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা তা অতুলনীয়, অপার্থি। চিকিৎসক কখনও ধনী-গরীব, জাতি-ধর্ম, সাদা-কালোর বিভেদ করেন না। সকল বিভেদ ভুলে দুঃসময়ে তিনিই রোগীর বিশ্বস্ত আপনজন হয়ে চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলেন। তাইতো পেশাটি এতো মহান। এই মহত্বকে ধারণ করাই একজন চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি। সফট্ওয়্যার উন্নয়নের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে আমার বহু সংখ্যক সুনামধন্য এবং মহান এ্যালোপ্যাথ ও হোমিওপ্যাথ চিকিৎসককে কাছে থেকে দেখা, জানা ও তাঁদের মানবিক মূল্যবোধের গভীরতা উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছে। মানুষের কল্যানে তাঁদের সেবাদানের মানসিকতায় মুগ্ধ হয়ে আমিও এই পেশায় উদ্বুদ্ধ হয়েছি। আমার স্বল্প পথচলায় এই পেশার নেতিবাচক দিকগুলিও উপলব্ধি করেছি। তাইতো আমার অভিজ্ঞতা থেকে সম্মানিত চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে দুটি কথা বলতে চাই;
একজন রোগী অনেক আশা ও বিশ্বাস নিয়ে রোগমুক্তির জন্য চিকিৎসকের কাছে যান। সর্বাবস্থায় রোগী বা তার নিকটজনের এই আশা ও বিশ্বাসকে সম্মানের সাথে ধারণ করাই হলো চিকিৎসকের একটি মহান কর্তব্য। কোন ব্যক্তি বা শ্রেণীকে সুবিধাদানের জন্য অহেতুক কোন টেস্ট দেওয়া কিম্বা রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পায় অথবা রোগীর জীবনকে আরও ঝুকিপূর্ণ করে তোলে এমন কোন কাজ থেকে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরত থাকা উচিৎ। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ রোগীর সাধ্যাতিত হলেও সুন্দর এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে একজন রোগী নিঃশ্ব হয়েও চিকিৎসক বা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদানুযায়ী অর্থের যোগান দিয়ে থাকেন। টাকা দেওয়া যেমন একজন রোগীর দায় বা কর্তব্য তেমনই চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলাও একজন চিকিৎসকের দায় বা কর্তব্য। একজন রোগী টাকা দিয়ে তার দায় থেকে সহজেই মুক্ত হতে পারেন কিন্তু একজন আদর্শ চিকিৎসক রোগীকে সুস্থ না করা পর্যন্ত কখনও মুক্ত হতে পারেন না। বিবেক তাঁকে তাড়িত করে। তাই চিকিৎসার কোন পর্যায়ে চিকিৎসক যদি মনে করেন তাঁর চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগী উপকৃত হচ্ছেন না তাহলে দ্রুত উপযুক্ত কোন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন কিম্বা তাঁর কাছে রোগীকে প্রেরণ করে সার্বক্ষণিক অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে রাখা উচিৎ বলে আমি মনে করি। এতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঐ চিকিৎসকের দক্ষতা ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং পারস্পরিক আস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।
রোগী দেহকে পরীক্ষাগার না করে একজন চিকিৎসককে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়েই রোগীর উপর প্রয়োজনীয় ঔষধ নূন্যতম মাত্রায় প্রয়োগ করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। তাই ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসক তাঁর পেশাগত ও শিক্ষা জীবনের জ্ঞানলব্ধ উপযুক্ত এবং প্রমাণিত রেফারেন্সকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবেন বলে আশা করি। এতে চিকিৎসক যেমন অন্য চিকিৎসক, রোগী বা তার নিকটজনের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যখ্যা দিতে পারবেন সেই সাথে তিনি তাঁর বিবেককেও দায়মুক্ত রাখতে পারবেন। একজন আদর্শ চিকিৎসক নিশ্চয়ই চিকিৎসার সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিজেকে বির্ভার রাখবেন। তবেইতো তিনি সেবাদান কাজে আত্মনিবেদিত হতে পারবেন।
আমাদের উন্নয়নকৃত যেসকল সফট্ওয়্যার রোগীর জন্য ঔষধ নির্বাচনে সরাসরি চিকিৎসককে সহায়তা করে থাকে, সেসকল সফট্ওয়্যারের সকল পর্যায়ে উপযুক্ত রেফারেন্সের মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একজন চিকিৎসক যেমন জানতে পারবেন কেন তিনি ঔষধটি নির্বাচন করছেন তেমনই একজন রোগীও চাইলে জানতে পারবেন কোন ঔষধ কেন তার উপর প্রয়োগ করা হয়েছে। এখানে ঔষধের অহেতুক এবং ভুল প্রয়োগের সুযোগ নেই।
একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে আপনার জীবন সফলতা ও সার্থকতায় পরিপূর্ন হোক, দীর্ঘ জীবন লাভ করে মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করুন -এটিই আমার প্রত্যাশা।